ad

Showing posts with label Kichu Kobita. Show all posts
Showing posts with label Kichu Kobita. Show all posts

Sunday, March 30, 2014

"মৃত্যুদন্ড"............

"মৃত্যুদন্ড"
__ শামসুর রাহমান

বেকসুর আমি তবু আমাকেই মৃত্যুদন্ড দিলে!
কী করে তোমার কাছে অপরাধী, এখনও জানি না;
কস্মিনকালেও আমি শত্রুতা সাধিনি, শুধু বীনা,
অলৌকিক, প্রেমময়, বাজিয়েছি। সেই সুরে ছিলে
মিশে তুমি বসন্তের পাতার গভীরে, শান্ত ঝিলে,
শস্যক্ষেতে নীলিমায়। এই কি আমার অপরাধ?
আমার সর্বস্ব দিয়ে রাত্রিদিন একটি নিখাদ
প্রেমস্বপ্ন গড়ি, তা-ও ভেঙ্গে যায় কী কর্কশ ঢিলে।

আমাকে পাঠালে নির্বাসনে, দিলে দন্ড ভয়ংকর।
তোমার সান্নিধ্য থেকে, অমন দৃষ্টির থেকে দূরে,
বহুদুরে চকিতে সরিয়ে দিলে- এই শাস্তি, বলো,
মৃতের চেয়েও বেশি, ঢের বেশি নয় কি কঠোর?
তুমি কি দেখতে চাও সর্বদা আমার ছলছল চোখ?
চাও আমার হৃদয় খাক কীট কুরে-কুরে?

Sunday, March 9, 2014

পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য হলো ................


1.   পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য হলো,কাউকে হাসতে দেখা। তার চেয়েও ভালো লাগবে, যদি আমি
জানতে পারি, আমার কারণেই একজনের
মুখে হাসি ফুটে উঠেছে 

-
আনিসুল হক

তোমার নাম লিখতে লিখতে -নির্মলেন্দু গুণ


1.   তোমার নাম লিখতে লিখতে
-
নির্মলেন্দু গুণ

এ পর্যন্ত তেত্রিশ কোটি বার তোমার নাম
লিখেছি।
তোমার নাম লিখতে লিখতে হাত ক্লান্ত
হয়েছে,
চোখ তবুও ক্লান্ত হয় না। দেখতে চায় তোমার
নামের শ্রী,
বানান, ব্যাকরণে এবং সম্মিলিত শব্দের
চেহারায়।
যেখানে তিনটি অক্ষরের ক্রমিক আড়াল
ভেঙে বেড়িয়ে আসে
তোমার হারিয়ে যাওয়া মুখ, গৌরচিক্কন
কন্ঠনালী, কোঁকড়ানো
চুলের এলানো খোঁপায়
জড়ানো একটুকরো লাল ফিতে।
কালো চশমার স্বপ্ন ঢাকা চোখ,
কিংবা শৈশবে হোঁচট খাওয়া
ঠোঁটের আদুরে দাগে সুন্দরের অনাবিস্কৃত
শোভা।

তারপর সমস্ত শরীর
ফেলে সোজা নেমে আসে তোমার ঐ
পায়ের তলায়, পদপ্রান্তে,
যেখানে অজান্তে ঘুমে একদিন আমি
হাত বুলিয়েছিলাম, অর্থাৎ যা কিছু তোমার,
তার দৃষ্টিগ্রাহ্য প্রায় সবাই
আমি দেখি তোমার নামের মধ্যে, যে নাম
লিখতে লিখতে
হাত ক্লান্ত হয়, জীবন প্রার্থনা করে মুক্তির,
অথচ চোখ ক্লান্ত হয় না।

আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়


1.   আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি 
-
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি তুই
এসে দেখে যা নিখিলেশ।
এই কী মানুষজন্ম? নাকি শেষ
পুরোহিত-কঙ্কালের পাশা খেলা!
প্রতি সন্ধ্যেবেলা
আমার বুকের
মধ্যে হাওয়া ঘুরে ওঠে,
হৃদয়কে অবহেলা
করে রক্ত; আমি মানুষের পায়ের
কাছে কুকুর হয়ে বসে
থাকি- তার ভেতরের
কুকুরটাকে দেখবো বলে।
আমি আক্রোশে
হেসে উঠি না, আমি ছারপোকার
পাশে ছারপোকা হয়ে হাঁটি,
মশা হয়ে উড়ি একদল মশার সঙ্গে;
খাঁটি
অন্ধকারে স্ত্রীলোকের খুব
মধ্যে ডুব দিয়ে দেখেছি দেশলাই
জ্বেলে-
(
ও-গাঁয়ে আমার
কোনো ঘরবাড়ি নেই!)

আমি স্বপ্নের মধ্যে বাবুদের
বাড়ির ছেলে
সেজে গেছি রঙ্গালয়ে, পরাগের
মতো ফুঁ দিয়ে উড়িয়েছি দৃশ্যলোক
ঘামে ছিল না এমন গন্ধক
যাতে ক্রোধে জ্বলে উঠতে পারি।
নিখিলেশ, তুই একে
কী বলবি? আমি শোবার
ঘরে নিজের দুই হাত পেরেকে
বিঁধে দেখতে চেয়েছিলাম যীশুর
কষ্ট খুব বেশি ছিল কি না;
আমি ফুলের পাশে ফূল
হয়ে ফূটে দেখেছি,
তাকে ভালোবাসতে পারি না।
আমি কপাল থেকে ঘামের মতন
মুছে নিয়েছি পিতামহের নাম,
আমি শ্মশানে গিয়ে মরে যাবার
বদলে, মাইরি, ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
নিখিলেশ, আমি এই-
রকমভাবে বেঁচে আছি, তোর সঙ্গে
জীবন বদল করে কোনো লাভ
হলো না আমার -একই নদীর তরঙ্গে
ছেলেবেলার মতো ডুবসাঁতার?-
অথবা চশমা বদলের মতো
কয়েক মিনিট আলোড়ন? অথবা গভীর
রাত্রে সঙ্গমনিরত
দম্পতির পাশে শুয়ে পুনরায় জন্ম
ভিক্ষা? কেননা সময় নেই, আমার
ঘরের
দেয়ালের চুন-ভাঙা দাগটিও বড়
প্রিয়। মৃত গাছটির পাশে উত্তরের
হাওয়ায় কিছুটা মায়া লেগে ভুল
নাম, ভুল স্বপ্ন থেকে বাইরে এসে
দেখি উইপোকায়
খেয়ে গেছে চিঠির বান্ডিল, তবুও
অক্লেশে
হলুদকে হলুদ বলে ডাকতে পারি।
আমি সর্বস্ব বন্ধক দিয়ে একবার
একটি মুহূর্ত চেয়েছিলাম,
একটি …, ব্যক্তিগত জিরো আওয়ার;
ইচ্ছে ছিল না জানাবার
এই বিশেষ কথাটা তোকে। তবু
ক্রমশই বেশি করে আসে শীত,
রাত্রে
এ-রকম জলতেষ্টা আর কখনও
পেতো না, রোজ অন্ধকার হাতড়ে
টের পাই তিনটে ইঁদুর না মূষিক?
তা হলে কি প্রতীক্ষায়
আছে অদূরেই সংস্কৃত শ্লোক? পাপ ও
দুঃখের কথা ছাড়া আর এই অবেলায়
কিছুই মনে পড়ে না। আমার পূজা ও
নারী-হত্যার ভিতরে
বেজে ওঠে সাইরেন। নিজের দু’হাত
যখন নিজেদের ইচ্ছে মতো কাজ
করে
তখন মনে হয় ওরা সত্যিকারের।
আজকাল আমার
নিজের চোখ দুটোও মনে হয় একপলক
সত্যি চোখ। এরকম সত্য
পৃথিবীতে খুব বেশী নেই আর।

Ad

Popular Posts